জুলাইয়ে বিশ্বব্যাপী ইস্পাত উৎপাদন কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ

বিশ্বব্যাপী জুলাইয়ে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কিছুটা কমেছে।

বিশ্বব্যাপী জুলাইয়ে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কিছুটা কমেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ওয়ার্ল্ডস্টিল) জানিয়েছে, গত মাসে বিশ্বের ৭০টি দেশের মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ১ লাখ টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কম।

বিশ্বের মোট ইস্পাত উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি আসে চীন থেকে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশটিতে উৎপাদন হ্রাস বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। ওয়ার্ল্ডস্টিলের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে চীনের উৎপাদন কমেছে ৪ শতাংশ। নির্মাণ খাতের দুর্বলতা, সরকারি অবকাঠামো, বিনিয়োগে শ্লথগতি ও কঠোর পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ উৎপাদন কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। গত মাসে চীনে মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৯৭ লাখ টন।

অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনে ভারত বেশ কয়েক মাস ধরে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। দেশটিতে এ খাতে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতের জোরালো চাহিদা। ভারতে সড়ক, রেল ও নগরায়ণ প্রকল্পে ইস্পাতের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। পাশাপাশি গাড়ি ও শিল্প উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণও চাহিদা বাড়িয়েছে। বড় ইস্পাত কোম্পানিগুলো নতুন কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোয় সরবরাহ বেড়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গত মাসে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টনে।

এটি আরো জানায়, জাপানে জুলাইয়ে ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে ৬৯ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ লাখ টনে।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে আফ্রিকায় অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কম। এশিয়া ও ওশেনিয়ায় দেশগুলোয় এ সময় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৪ লাখ টন, এটি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কম।

এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো থেকে ইস্পাত উৎপাদন ৭ শতাংশ কমে ১ কোটি ২ লাখ টনে নেমে এসেছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ টনে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোয় উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৪৪ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। উত্তর আমেরিকায় উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ লাখ টনে। এ সময় দেশগুলোয় উৎপাদনে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

রাশিয়া ও অন্যান্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশে উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭ লাখ টনে, যা ২০২৪-এর জুলাইয়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম। দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপাদন হয়েছে ৩৬ লাখ টন। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

আরও